পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য এবং রহমাতুল্লিল আলামীন প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অসংখ্য দরূদ ও সালাম।
আলহামদুলিল্লাহ, আসসুন্নাহ্ কমপ্লেক্স দারুল উলূম আল-মাদানীয়া মাদরাসার মূল ভিশন হলো-এমন একদল আলেমে দ্বীন তৈরি করা, যাঁরা হবেন আধুনিক ও কর্মমুখী জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী এবং বিশুদ্ধ দ্বীনি শিক্ষায় সুসজ্জিত। আমাদের শিক্ষা দর্শন হলো কুরআন ও সুন্নাহকে সাহাবায়ে কেরাম সহ সালাফে সালেহীনের অনুকরণে জানা, বুঝা, মেনে চলা ও এর প্রচার-প্রসারে নিবেদিতপ্রাণ তলেবে ইলম তৈরি করা। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দ্বীনি শিক্ষায় নিবেদিত এই শিক্ষার্থীদেরকে আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অবশ্যই প্রয়োজনীয় কর্মমুখী জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী করে গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জীবনের শুরু থেকেই আমরা মাতৃভাষা বাংলাসহ আরবি ও ইংরেজি ভাষায় বিশেষ যোগ্যতা তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছি। একই সাথে, দেশের সেরা স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের সমমানের যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভ‚গোল ও তথ্যপ্রযুক্তি সহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় স্বাধীনভাবে বিচরণ করার মতো সক্ষমতা তৈরি করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
আমাদের এই বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে, শিক্ষার্থীরা যেন পঞ্চম শ্রেণির মধ্যেই অর্থ বুঝে সম্পূর্ণ হিফযুল কুরআন এবং অষ্টম শ্রেণির মধ্যে কমপক্ষে এক হাজার হাদিস অর্থ সহ মুখস্থ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে এ মানের শিক্ষার্থীগণ এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স ও মাস্টার্স লেভেলে কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ সহ সকল দ্বীনি বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ্।
এভাবেই আমরা এমন কিছু যোগ্য তলেবে ইলম গড়ে তুলতে সংগ্রাম করছি, যারা মাধ্যমিক স্তর শেষ করার পর-যার ইচ্ছা স্কলার/ আলেম হওয়ার আশায় মক্কা-মদীনার বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবে, আর যার ইচ্ছা দেশের সেরা ভার্সিটি, মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, কুরআনের হাফেজ ও হাদিসের হাফেজ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও বিসিএস ক্যাডারদের মাধ্যমে আমাদের সমাজ দুর্নীতিমুক্ত হবে এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সুসজ্জিত স্কলার। আলেমে দ্বীনগণ জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হবেন ইনশাআল্লাহ।
আমরা মনে করি, এই দায়িত্ব গ্রহণ করা সকল মাদরাসা ও ইসলামিক স্কুলের নৈতিক কর্তব্য। একইসাথে উদাত্ত আহব্বান জানাচ্ছি যে, দ্বীন দরদী ভাই-বোনেরা এই উচ্চ লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে ইসলামের নামে পরিচালিত সকল মাদরাসা ও স্কুলগুলোর উপর সচেতন চাপ বৃদ্ধি করুন এবং বছর শেষে আপনার সন্তানের অর্জিত প্রকৃত যোগ্যতা কড়ায়গন্ডায় বুঝে নিন। আল্লাহ্ আমাদের সকলের এই দ্বীনি কাজকে খাঁটিভাবে তাঁরই জন্য কবুল করুন।
আব্দুল মাতিন মাক্কি
এম. ফিল গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়